আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান জনসমক্ষে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি প্রথম ভোটে হ্যাঁ এবং দ্বিতীয় ভোটে দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হ্যাঁ মানে আজাদি, আর না মানে গোলামি, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত শক্তি। তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের সকল প্রার্থী দুর্নীতিমুক্ত। তাদের মধ্যে ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি কিংবা নারী নির্যাতনকারী কেউ নেই। যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে এবং নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয়ও দেব না বলে জানান জামায়াত আমির।
এ বক্তব্য তিনি দিয়েছেন রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বহু নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষা ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে এবং প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষাকেই জাতি গঠনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তরুণদের কর্মসংস্থান বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা নয়, কাজের অধিকার চেয়েছিল। ক্ষমতায় এলে তরুণদের সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। সরকারি চাকরিতে দলীয় আনুগত্য নয়, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সবার জন্য সমানভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
দেশের পর্যটন শিল্পের অবস্থার অবনতি নিয়ে তিনি বলেন, অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে খাতটি সংকটে পড়ে আছে। ক্ষমতায় এলে রাজশাহীর প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা ও হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোটকে জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন দাবি করে তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এই সুযোগ এসেছে এবং তিনি নিরাপদ, ন্যায়সংগত এবং অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
নারী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্মস্থলে ডে-কেয়ার ও বেবি-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে রাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের বিপরীতে দাঁড় করাবে না বলে উল্লেখ করেন।
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা আলম মিতু, বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা এবং মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। এদিন দুপুরেও গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত একটি জনসভায় তিনি একই বক্তব্য পরিবেশন করেন এবং রাজশাহী-১ থেকে রাজশাহী-৬ আসনের জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। জনসমাগমে নারী ও পুরুষদের আলাদা বসার ব্যবস্থা ও আহতদের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণ করা হয়।
মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন সরকার বলেন, রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বৃহৎ ও সুশৃঙ্খল সমাবেশ জামায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণযোগাযোগ অনুষ্ঠান ছিল।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy